বৃহত্তর ফরিদপুর হবে উন্নয়নের মডেল : হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

লেখক:
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

ফরিদপুর থেকে নুরুল ইসলাম : ফরিদপুর শহরের বর্তমান অবকাঠামোগত বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেছেন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরকে নিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুরকে উন্নয়নের মডেল বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদপুর শহরের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হুইপ অপু বলেন, ‘ফরিদপুর একটি প্রাচীন ও বৃহত্তর জেলা। এই জেলা থেকেই রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের জন্ম হয়েছে। ফরিদপুরকে বলা হয় মা। কিন্তু আজ সেই মায়ের ভগ্নদশা নিজের চোখে দেখে আমি বিস্মিত।’
তিনি বলেন, ‘আজ ফরিদপুর শহরের ভেতর দিয়ে আসার সময় যা দেখলাম, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এখানে ঢুকে মনে হয়েছে, আমি যেন ৫০ বছর আগের একটি শহরে প্রবেশ করেছি।’
হুইপ বলেন, শুধু সমালোচনা নয়, ফরিদপুরের এই চিত্র বদলাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলার উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। ‘আমরা ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরকে নিয়ে গঠিত বৃহত্তর ফরিদপুরকে উন্নয়নের মডেল বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলব।’
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন হুইপ অপু। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি ছিল, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
হুইপ অপু বলেন, ‘৭১-এর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রাজকোষাগার ছিল শূন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না। দেশের সামাজিক অবস্থাও ছিল বিচ্ছিন্ন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি তার চেয়েও খারাপ অবস্থায়। আমরা শূন্য অর্থনীতির মধ্যে নই, মাইনাস অর্থনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশ বিপুল ঋণের বোঝায় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১-পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। একইভাবে ২০২৪-পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছেন। জনগণের সেই আস্থার মর্যাদা দিতে হবে।
হুইপ বলেন, ‘এই মাইনাস অর্থনীতি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন অর রশীদসহ বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ূম জঙ্গি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।
সভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।