শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বয়ে বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

লেখক:
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

মোঃ আমিরুল হক : একটি বিদ্যালয়ের ভবন যতই সুন্দর হোক, শিক্ষার পরিবেশ যতই আধুনিক হোক শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান নিশ্চিত করা কঠিন। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুবেল মাহমুদ সুমন।
শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই তাঁর কাছে শিক্ষার মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
সভাপতি রুবেল মাহমুদ সুমন বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষকরা একটি বিদ্যালয়ের প্রাণ। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর ও কার্যকর করতে চাই।”
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের নিবিড় নজরদারি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সহযোগিতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এসব বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ তৈরির লক্ষ্য বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও জরুরি। সভাপতি সুমনের পরিকল্পনায় তাই শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি মনে করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীল কার্যক্রম ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
“আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন শুধু ভালো ফলাফল করে তা নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠে এটাই চাই। শিক্ষা জীবনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা,” বলেন তিনি।
শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর। তাই তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নয়, বরং তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান সভাপতি সুমন।
তাঁর ভাষায়, “বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যদি একই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও ভালো করা সম্ভব।”
এমন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সবকিছুতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর
শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ কেমন, তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সভাপতি সুমন মনে করেন, বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা শুরুতেই চিহ্নিত করা সম্ভব। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে।
তিনি বলেন, “অভিভাবকদেরও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাই। কারণ সন্তানকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।”
প্রযুক্তিনির্ভর সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর প্রত্যাশা বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যপ্রাপ্তির সহজ সুযোগ এবং পরিবর্তিত কর্মজগতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করানো এখন সময়ের দাবি।
বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সভাপতি রুবেল মাহমুদ সুমন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতেও শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন।
বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রুবেল মাহমুদ সুমন বলেন, “আগামী দিনে শিক্ষাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই। বিদ্যালয়ের যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য শিক্ষকরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়েই আমরা সামনে এগোতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আস্থা বাড়বে।
একটি বিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার ফলাফলের জায়গা নয়; একটি বিদ্যালয় একটি এলাকার ভবিষ্যৎ তৈরির কারখানা। এখান থেকেই গড়ে ওঠে আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক, উদ্যোক্তা ও সমাজের নেতৃত্বদানকারী মানুষ।
সেই জায়গা থেকেই বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে দেখছেন সভাপতি রুবেল মাহমুদ সুমন। তাঁর প্রত্যাশা, শিক্ষকরা তাঁদের মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেবেন, অভিভাবকরা পাশে থাকবেন এবং পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।
সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা বাস্তবে রূপ নিলে বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু ভালো ফলাফলের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।