Oplus_131072

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া এলাকায় একটি আখক্ষেত থেকে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে নবীরন বেগম (৫৮) নামে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মৃত নবীরন বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আইনদ্দিন মৃধা পাড়ার রহিম শেখের স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই নারী গত বুধবার (২সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টার দিকে তার ধান ক্ষেতে যায়। তার ধান ক্ষেতের সাথেই ছিলো আঃ রফিকের আখ ক্ষেত, যা ছিলো চুরি এড়াতে বিদ্যুতের লাইন দিয়ে পরিবেষ্টিত। ওই নারী সেই তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঘটনাটি আখ ক্ষেতের মালিক আঃ রফিক দেখে নারীর লাশটি সেই ক্ষেতের আইলে গর্ত করে পুঁতে রাখে এবং আখের পাতা দিয়ে ওই স্থান ঢেকে রাখে। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরতে দেরি হলে নারীর পরিবার তাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা সেই নারীর হাত, পা বাঁধা অবস্থায় পুঁতে রাখা লাশ খুঁজে পায় তার পরিবার। এরপর থেকে আঃ রফিক নেতাদের ধরাধরি শুরু করেন। একপর্যায়ে সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আবু তালেব বিষয়টি আইনী ঝামেলা এড়াতে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে দেন সেই নারীর পরিবারকে।
এ বিষয়ে মৃত নবীরন বেগমের ভাই ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা আফজাল শেখ বলেন, এখন একটি দূর্ঘটনায় তার বোন মারা গেছে। আমরা লাশের কাটাকাটি চাই না। স্থানীয় আবু তালেব আমাদের সাথে কথা বলে চার লক্ষ টাকার বিনিময়ে মিটমাট করেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কারোই কোন অভিযোগ নেই।
দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার বাড়ির পাশের আখক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারের সময় নবীরন বেগমের পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত আবু তালেব বেপারী ও আবজাল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইসমাইল বেপারী তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
নিহতের ছেলে রাসেল শেখ বলেন, ‘আমার মা আমাদের ধানক্ষেতে কাজ করার সময় সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর আমাদেরকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটি স্বাভাবিক মৃত্যু এবং পরিবারের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে আমরা শুনতে পেলাম এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না এবং এখানে অর্থনৈতিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে সকালে লাশ জানাজা করতে না দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
