৫৩ প্রধান শিক্ষকের এসিআর না দেওয়ার অভিযোগে বালিয়াকান্দি শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) স্বাক্ষর না করে পরবর্তী কর্মস্থলে যোগদানের উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে অবরুদ্ধ করেছেন শতাধিক শিক্ষক।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান ফটক বন্ধ করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করেন বালিয়াকান্দির নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ও থানা পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলার কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযোগ করেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহার ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। এছাড়া স্লিপ ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি উপজেলার ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর স্বাক্ষর না করেই কুষ্টিয়া জেলায় যোগদান করতে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিষয়টি জানতে পেরে তারা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া ইসলাম বলেন, আমাদের ৫৩ জন প্রধান শিক্ষকের এসিআর স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন কাজে এসিআর প্রয়োজন হয়। এটি ছাড়া আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হব। সকাল থেকে তাকে অনুরোধ করছি, কিন্তু তিনি এসিআরে স্বাক্ষর করছেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, বালিয়াকান্দির উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। শিক্ষকদের এসিআর না দেওয়ার কারণে উপজেলার শিক্ষকরা তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আগামী রবিবার তিনি কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় যোগদান করবেন। আমি তাকে শিক্ষকদের এসিআর দিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহার বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষক অনৈতিক দাবি নিয়ে আমার কাছে আসছিলেন। আমি নিয়মের বাইরে কোনো কিছু করব না।’
গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মোছা. তাজমুন্নাহারকে বালিয়াকান্দি উপজেলা থেকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।