গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী চ্যানেল পর্যন্ত বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা : রাজবাড়ী পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন থামছে না

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

সোহেল রানা : হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ী পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। প্রকাশ্যে বালি উত্তোলন করে বাল্কহেটে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষমতার দাপটে চালিয়ে যাচ্ছে বালি উত্তোলন কার্যক্রম।
জানাগেছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী চ্যানেল পর্যন্ত রাজবাড়ী, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করেন বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ।
আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন, আইনজীবী হাবিব-উন-নবী ও মোঃ আশিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ আহমেদ। এছাড়া নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষে ছিলেন, মুনতাসীর মাহমুদ রহমান।
রায়ে বলা হয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বালু মহাল ইজারার ক্ষেত্রে অবশ্যই বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুসরণ করতে বলা হয়। আর পদ্মা নদী চ্যানেলের তলদেশ রক্ষা করে এবং নদীর পাড় ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে সম্পন্ন করে সেই সার্ভের ভিত্তিতে বালু মহাল ঘোষণা করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরিদ হাসান মেহেদী ও রাশেদুজ্জামান রানাসহ ৫ জন ২০২২ সালে জনস্বার্থে রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে করে রায় দেওয়া হয়।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুত্রমতে, পদ্মা নদীর রাজবাড়ী সদর উপজেলার ফুরসাহাট বালু মহাল, চর নরসিংহদিয়া বালু মহাল, নয়নসুখ বালু মহাল, খাসচর পদ্মা বালু মহাল, চর জাজিরা বালু মহাল ইজারা প্রদান বন্ধ রয়েছে। তবে, গড়াই নদীর কালুখালীর পাতুরিয়া বালু মহাল ইজারা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়ার অদুরে পদ্মা নদী থেকে রাতের আধাঁরে প্রভাবশালীরা বালু লুট করছে। ড্রেজার দিয়ে গত রাতে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে করে পদ্মা নদী দিয়ে নিয়ে যায়। দৌলতদিয়া ঘাটের অদুরে কলাবাগান এলাকা থেকে বালু কেটে বালুবাহী বাল্কহেড বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের নেই কোন নজরদারী।
নাম না প্রকাশের শর্তে একজন বালু ব্যবসায়ী বলেন, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ সহ সকলকে ম্যানেজ করেই পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বালু দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এ ব্যবসার সাথে দুই জেলার প্রভাবশালীরা রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, পদ্মা নদীর কুষ্টিয়ার দিক থেকে কিছু বাল্কহেড বালু বোঝাই করে চলছে। বিষয়টি জানতে পেরেছি। পদ্মা নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় অভিযান পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের নিকট পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।