
সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক উৎপাদনশীলতা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা। তিনি বক্তব্যে বলেন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি মো. সুলতান নূর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাবেক সদস্য সচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস, বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা পোল্ট্রি হ্যাচারি মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ছিদ্দিক মিয়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, তরুণ উদ্যোক্তা আঙ্গুর চাষী ফারদিন, পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আজাহার উদ্দিন, নারী উদ্যোক্তা জাসমা মাহবুব, উপজেলা জেলে সংগঠনের সভাপতি আসলামসহ বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও সুধীজন।
বক্তারা বলেন, কৃষি, পোল্ট্রি-হ্যাচারি, শিল্প ও সেবা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তারা আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।
সভায় বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে দক্ষতা উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কাজের মান উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে আয়োজকরা মনে করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
