
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর কালুখালীতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম খান নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন করেছে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন। নিহত নজরুল ইসলাম খান (৬০) কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার সকাল ১১ টায় রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে রাজবাড়ীর সকল রক্তদাতা ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
মানববন্ধন চলাকালে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবীতে বক্তৃতা করেন, মানবতা যুবক ব্লাড ফাউন্ডেশন রাজবাড়ীর সভাপতি মেহেদী হাসান মাহফুজ, নিহতের মেয়ে রুনা খানম, তাহমিনা আক্তার, মানবতা যুবক ব্লাড ফাউন্ডেশন রাজবাড়ীর সেক্রেটারি তাজরিয়ান লাবনী, মানবতার সেবা বন্ধুরা কমিটি পাংশার এডমিন খাইরুল হোসেন, মানবতার সেবা বন্ধুরা কমিটির পরিচালক শাহরিয়া রিয়াজ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারটি চরম আতঙ্কে রয়েছে। আমরা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারের দাবী জানাচ্ছি। মামলার আইওকে আসামী ধরতে বললে খারাপ আচরণ করে। আসামী গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
নিহতের বড় মেয়ে তাহমিনা আক্তার বলেন, তার ছোট বোনের দেওয়া একটি ফেইসবুক স্টাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ইমান সরদার, তার স্ত্রী বুলু, ছেলে তুহিন ও মেয়ে গোলাপি বেগমের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জের ধরে তারা নজরুল ইসলামের পরিবারের লোকদের উপর হামলা চালায়। এতে ইট ও লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই নজরুল ইসলাম খান নিহত হয়। সেই সাথে গুরুতর আহত হয় নিহত নজরুল ইসলাম খানের স্ত্রী জহুরা বেগম ও মেয়ে রুনা।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জঁঘধ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয় “কিরে শুনলাম এলাকার কোন ফেরেশতা হুজুরিনির মেয়ে বলে কট খাইলো? সবাই চুপ কেন এখন?” ওই স্ট্যাটাসের নিচে একই আইডি থেকে করা একটি কমেন্টে লেখা হয় “এতদিন এলাকার মধ্যে নিজে আকাম করে বেড়াইছে এখন আবার মেয়েও তাই শুরু করছে ১১-১২ বছর এর মেয়েও এইসব করে মানুষ দেখেও মুখ বন্ধ করে রাখছে আর মানুষের ড্রেস আপ নিয়ে কথা বলে নিজের মেয়ের ড্রেস আপ কি সোনা আর তোমার মেয়ে এখন কি করে তোমার মতোই বানাইছ মাইয়ারে” ফেসবুকের ওই পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। এরই জেরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ইমান সরদার, তার স্ত্রী বুলু, ছেলে তুহিন ও মেয়ে গোলাপীর বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম খানকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মেয়ে রুনা বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তারা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে মাথায় আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তার বাবা মারা যান। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাকিবুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষক নজরুল ইসলাম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে। সেই সাথে গোলাপী নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার বাকি অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চলছে।
