বালিয়াকান্দিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস

লেখক:
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

মোঃ আমিরুল হক : ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মুরাদ ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তহমিদা খানম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারমিস সুলতানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার পরিচালক মোঃ মোকাররম হোসেন, বালিয়াকান্দি পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রাণী দাস, মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বালিয়াকান্দি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সনজিৎ কুমার দাস এবং শিক্ষার্থী তাহমিনা ইসলাম তন্দ্রা, সানন্দাসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশু পরিবারের বোঝা নয়; বরং একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের অমূল্য সম্পদ। যথাযথ শিক্ষা, পরিচর্যা, নিরাপত্তা ও সুযোগ পেলে কন্যাশিশুরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা এমন কোনো উদ্যোগের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
শিশুদের ওপর অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনার স্বার্থে তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশুদের হাতে অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোন তুলে না দিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করতে হবে। এ সময় স্মার্টফোনের অপব্যবহার ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি সহায়তা ও জরুরি সেবা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা জানান, বাল্যবিবাহের খবর জানাতে এবং এ ধরনের বিয়ে বন্ধে সহায়তা পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এ যোগাযোগ করা যায়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, অধিকার সংরক্ষণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে দক্ষ, যোগ্য ও আত্মনির্ভর নাগরিক হিসেবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।