
স্টাফ রিপোর্টার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা আরও একটি মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলীকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় শুনানির জন্য কাজী কেরামত আলীকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত।
এদিকে, পরবর্তীতে গোয়ালন্দ আমলী আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার একটি মামলায় কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়ের করা হয়। এ মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন রেজা তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা বলেন, এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে কাজী কেরামত আলী প্রথমে গ্রেপ্তার হন। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি ওই মামলায় জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলে সেই মামলাতেও তিনি জামিন পান। এরপর আবারও তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার নিয়মিত হাজিরার দিন ধার্য ছিল। তবে এর আগের দিনই গত বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকেই সাবেক এই শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
