দৌলতদিয়ায় হাতুড়ে ডাক্তারের ভূতুড়ে চিকিৎসায় মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চাঁদনী
লেখক:
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে
সিরাজুল ইসলাম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশকিছু ফার্মেসি আর এখানেই ডাঃ নাম ব্যাবহার ডিএমসি এবং সন্তান প্রসবের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে ভূল চিকিৎসায় অনেকেই সন্তান হারা হচ্ছেন আবার অনেকেই মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমনি একটা ঘটনা সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি একজন পশু চিকিৎসক এবং ডিএমএফ পাশ একজন স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে একজন গর্ভাপাত করানোর সময় নবজাতকের মৃত্যু এবং সাইডে রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যাবহৃত তুলা ও গজ রেখে দেওয়ায় সেগুলো পচে ইনফেকশন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া শাহাদাত মেম্বার পাড়ায় গিয়ে কথা হয় চাঁদনি’র বাবা চান মিয়া এবং তার মায়ের সাথে। তারা জানান, ঘটনার দিন রাত দুটোর সময় মেয়ের প্রসবের ব্যাথা উঠলে প্রথমে
একজন ধাত্রীকে ডাকা হয় তিনি প্রথমে জানান সন্তান দেখা যাচ্ছে না এমত অবস্থায় তারা মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে তখন ধাত্রী জানান বাচ্চা দেখা যাচ্ছে। তবে আসলাম ডাক্তার ইনজেকশন দিলে বাচ্চা নিচে নেমে আসবে তখন খুব সহজেই বাচ্চা প্রসব সহজ হবে। আসলাম ডাক্তার এসে ইনজেকশন দেওয়ার পরও সন্তান প্রস্তাব না হওয়ায় রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে তখন খবর দেওয়া হয় ডিএমএফ ডাক্তার লাভলী আক্তার রথীকে। তিনি এসে সাইট কেটে বাচ্চা বের করে আনেন। তাদের অভিযোগ তারা নিজেরা জীবিত বাচ্চা দেখেছে কিন্তু রগ কাটার পর বাচ্চা মারা যায়। রক্ষা খরন হওয়ার কারণে তুলা ও গজ দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় মেয়ের অবস্থা দিনের পর দিন খারাপ হতে থাকে এসময় ডাক্তার রথী ও আসলাম রোগীর কোন খোঁজ খবর নেয়নি বিশেষ করে ডাক্তার রোথী যিনি সন্তান বের করে এনে তুলা ও গজ দিয়ে সেলাই করে দেন। পরে তারা চাঁদনিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা সেই গজ ও তুলা বের করে ফেলে দেয় ততোদিনে সেখান থেকে দূর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এছাড়া এই বিষয়ে ডাক্তার রোথীকে এসে দেখতে বললে তিনি তার চেম্বারে নিয়ে যেতে বলেন।
দৌলতদিয়া বাজারে অবস্থিত রুপকথা ফার্মেসির প্রোপাটার ইফাত জাহান রোথী বলেন, আগে আসলাম ডাক্তার এবং ধাত্রী সন্তান প্রসবের চেষ্টা করছে সেই ভোর থেকে বেলা একটা পর্যন্ত তারা ব্যার্থ হয়ে আমাকে খবর দিয়েছে। আমি বেলা একটার সময় গিয়ে বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি করিয়েছি। তার টিআর হওয়ায় সেখানে সেলাই দিয়ে দিয়েছি। তবে মরা বাচ্চা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বাচ্চা থাকার কারণে পেটে মধ্যেই বাচ্চার মৃত্যু হয়। আর কিছুক্ষন থাকলে মায়েরও মৃত্যু হতো। তবে গজ ও তুলো রেখে দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অপর দিকে পশু চিকিৎসক আসলাম ডাক্তার বলেন, নরমাল বাচ্চা হওয়ার জন্য তিনি শুধু ইনজেকশন পুশ করেন এরফলে বাচ্চা নিচের দিকে নেমে আসে বাকী কাজ ধাত্রী করে। তাছাড়া আমি রোগীকে টাছ করা বা সন্তান প্রসবের কাজ করি না।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি দুঃখজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চাইলে বা ভ্রাম্যমান ম্যাজিষ্টেট কোর্ট পরিচালনা করলে তাকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মারুফ হাসান বলেন, ডিএমএফ সার্টিফিকেট ধারী কারও সন্তান প্রসবের মতো কাজ করার কোন রাইট নেই। এটা শুধু মাত্র সরকারি প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা,করতে পারেন। এছাড়া তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, রোগীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকলে আমরা এবং উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবো। দোষী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।