
সোহেল রানা : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ডকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পতিত সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানা চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
বুধবার দুপুর ১টায় রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্লন্তিকাল অতিক্রম করছে। আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মূল্যস্থিতির কারণের নিন্মবিত্ত ও মধ্যেবিত্তদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পতিত সরকার থেকে এই মূল্যস্থিতি পাওয়ার ফলে দেখা গেছে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে গেছে। একই ভাবে মানুষকে এই মুল্যস্থিতির কারণে তার নিজের সঞ্চয় ভাংতে হয়েছে, তাকে ঋণ করতে হয়েছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ উত্তরাধিকার সুত্রে এমন অবস্থায় পেয়েছি, যার কারণে কর্মসংস্থানহীনতা এবং যুব বেকারত্ব বেড়েছে অনেক শতাংশ। শিক্ষিত বেকারত্বের অবস্থা অন্য যে কোন সময়ের থেকে আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে জ¦ালানীর দাম বেড়ে যাওয়ায় যা অর্থনীতির উপর আরেকটি চাপ তৈরী হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থা, বিভিন্ন ভাবে দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি নিয়ে তাদের তথ্য উপস্থাপন করেছে। এ বিষয়ে কতগুলো ভুল ধারণা বিভিন্ন ভাবে তথ্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূল তথ্য, অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আমরা যদি খেয়াল করি দেখবো যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল যে জিডিপি সম্পর্কে প্রক্ষাপন করেছে, বা মূল্যস্থিতি সম্পর্কে যে প্রক্ষাপন করেছে, এখানে একটা মৌলিক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সেটি হচ্ছে, সংস্কার যদি না করা হয়, তাহলে এই নিন্ম প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু আপনারা জানেন নির্বাচনী ইস্তেহারে পরিস্কার ভাবে আমাদের সংস্কার গুলো উত্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজস্ব আয় খুবই দুভাগ্যে জনক যেটা পতিত সরকারের সময় তলানীতে পৌছেছে। সেক্ষেত্রে আমরা ইস্তেহারে উল্লেখ করেছি, কর না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো। মূল্যস্থিতির ক্ষেত্রে যাতে আরও দরিদ্র সীমার নিচে না নেমে যায় তার জন্য যুগান্তকারী কতগুলো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরফলে আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছি যে, যতগুলো বহুবাঙ্খিত সংস্থা আছে, অর্থাৎ বিশ^ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামিক ডেভলমেন্ট ব্যাংক সব গুলোর প্রধান ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং ইস্তেহারে যে গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার মাধ্যমে যে পরিবর্তন হবে সে ব্যাপারে আস্থা প্রকাশ করেছেন।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, আমাদের প্রতিটি সংস্কারকে আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে আমরাই উল্লেখ করেছি এই সংস্কারগুলো গ্রহণ করতে। তাদের ভাষায় এই সংস্কারগুলো খেয়াল করেন, তারা পরিস্কার ভাবে বলছে আমাদের সংস্কার, আমাদের অগ্রাধিকার। তার আলোকেই তারা সহায়তা দিবেন। তারমানে যে বিষয় গুলো নিয়ে এক ধরণের সন্দেহ বা সংশয়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেটি আসলে ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কথা যদি আমরা বলি, তাহলে দেখা যাবে যে আর্টিক্যাল ফোর মিশনে তা পরিস্কার ভাবে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার ৪.৭ শতাংশ হবে। সংস্কার না করলে হবে না, সংস্কারের কথাগুলোতে সরকারই ঘোষণা করেছে। ইস্তেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চবার্ষিকী অর্থনীতি কৌশল কিভাবে সংস্কার হবে সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি সংস্কার করবেন সেগুলো সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কি ধরণের সংস্কার হবে তা উল্লেখ করেছেন। তারা আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, আমাদের যে সংস্কার গুলো আমরা চিহিৃত করেছি, সেই সংস্কার। তার মানে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজস্ব সংস্কারে তারা তারা সার্বিক সহায়তা দিবেন। সরকারের গৃহিত সংস্কার কর্মসূচি অগ্রাধিকার নির্দিষ্ঠ করেছে সরকার। যা বাস্তবায়ন হলে আমাদের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি ৬.৫ অর্জিত হবে।
ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ডকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পতিত সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানা চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
এসময় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা তথ্য অফিসার রেখা সহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
