
স্টাফ রিপোর্টার : তিন দশক ধরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বদলে গেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মানচিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একের পর এক জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মানুষের জীবন-জীবিকার নানা অবলম্বন। ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে অনেকে হারিয়েছেন বাপ-দাদার ভিটেমাটি। কেউ পাঁচবার বাড়ি হারিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছেন, কেউ আবার অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করেছেন। কিন্তু সেখানেও কাটছে না নদীভাঙনের আতঙ্ক। বর্ষা এলেই নতুন করে শুরু হয় পদ্মার আগ্রাসন, বাড়ে মানুষের উৎকণ্ঠা।
গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া ও উজানচর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ভাঙন। কোথাও নদী কেড়ে নিচ্ছে ফসলি জমি, কোথাও বসতবাড়ি, আবার কোথাও হুমকির মুখে পড়েছে কবরস্থান, ঈদগাহ, বাজার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে নদীর পাড়ে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিকল্পিত ও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না থাকায় এক বছর আগে ফেলা জিও ব্যাগও পরের বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও স্থায়ী সুরক্ষা পাচ্ছেন না নদীপাড়ের মানুষ।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর তীর রক্ষাসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়নে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
গোয়ালন্দ উপজেলা চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এই উপজেলাতেই অবস্থিত। পাশাপাশি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গড়ে উঠেছে নৌবন্দর। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের দীর্ঘদিনের বড় সংকট পদ্মার ভাঙন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত তিন দশকে পদ্মার গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার মাঝামাঝি দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদী ক্রমে রাজবাড়ীর দিকে সরে এসেছে। এতে দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোনও কোনও এলাকায় যেতে এখন পদ্মা নদী পার হতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দশকে নদীর গতিপথ প্রায় ১০ কিলোমিটার রাজবাড়ীর দিকে সরে এসেছে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নটিতে মোট ৪৩টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মার ভাঙনে ২৪টি মৌজার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়া মৌজাগুলো হলো জয়পুর, সহস্রাইল, বড় সিঙ্গা, বড় বিলা, বড় ভবাইল, সোনাইডাঙ্গী, কানাইদিয়া, খাস জয়পুর, বেচুয়ার ভবাইল, পণ্ডিত ভবাইল, জামালপুর, বড়কাজীরচর, দুর্গাপুর, এলাইল, ইলাহল, হরিরামপুর, ইলিশপুর, লক্ষণদিয়া, মালদা চর, ছোট গোপীনাথপুর, গোপীনাথপুর চর, বিষ্ণুবাড়ী, চরচাঁদবাড়ী ও শ্যামপুর-মোহনপুর।
অন্যদিকে, পদ্মার বুকে আবার জেগে উঠেছে ১৩টি মৌজার জমি। এসব মৌজা হলো পুরুনি, পানইর, কুশাহাটা, ছোট গোয়ালন্দ, ইসাইল শিবরামপুর, দক্ষিণ ধোপাগাতী, উত্তর ধোপাগাতী, আগ পালন্দ, চর পালন্দ, খর্দ্দ গোবিন্দ, দেওলি, চর দেওলি ও বিশ্বনাথপুর। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও পলি জমে নতুন ভূমি জেগে ওঠার ফলে এসব এলাকায় আবারও বসতি গড়ে উঠেছে। তবে নতুন চর জেগে উঠলেও আগের বসতি ও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের সংকট তৈরি হয়েছে।
দৌলতদিয়ার কুশাহাটা মৌজা এর একটি উদাহরণ। একসময় জনবহুল এই এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। প্রায় এক দশক ধরে সেখানে নতুন করে চর জেগে উঠেছে। বর্তমানে ওই চরে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু মূল দৌলতদিয়া ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বাসিন্দাদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উজানচর ইউনিয়নেও পদ্মার ভাঙনে ব্যাপক ভূমি হারানোর ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়নটিতে মোট ২৭টি মৌজা রয়েছে।
উজানচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৪টি মৌজার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৌজাগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্যোধন কান্দি, ছোট গোপীনাথপুর, বিষ্ণুবাড়ী, চরচাঁদবাড়ী, শ্যামপুর, মোশার হরিরামপুর, গোপীনাথপুর, দক্ষিণ রাধাকান্তপুর, কচালিয়াচর, কণ্ঠদিয়া, খোদ রাধাকান্তপুর, লক্ষণপুর, এলাই ও বেলতলী।
এসব মৌজার মধ্যে আটটি মৌজায় শীতকালে চর জেগে ওঠে। সেখানে শীতকালে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তবে সব জমি স্থায়ীভাবে বসবাস কিংবা সারা বছর কৃষিকাজের উপযোগী থাকে না। ফলে নদীভাঙনে জমি হারানোর পর নতুন করে চর জাগলেও আগের মতো জীবিকা ফিরে পাওয়া যায় না।
দেবগ্রামের আট মৌজা হারিয়ে গেছে পদ্মায়
দেবগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নটির আটটি মৌজা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। একসময় এসব এলাকায় হাজারো মানুষের বসতি, গাছপালা, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু নদীর অব্যাহত ভাঙনে জনপদগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। বিলীন হওয়া মৌজাগুলো হলো বড় ভবানীপুর, বড় দেলুপ্দি, সাজাপুর দেলুপ্দি, পশ্চিম বাঘাবাড়ী, জাবরা, দেবগ্রাম, বেমরি ও শীতলপুর।
এসব এলাকার অনেক বাসিন্দা ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কেউ কাছাকাছি এলাকায় নতুন করে বসতি গড়েছেন, কেউ আবার আত্মীয়স্বজনের আশ্রয়ে কিংবা অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত তিন বছর ধরে এখানে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন স্থানীয় কবরস্থান, ঈদগাহ, বাজার ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু জমি বা অবকাঠামো নয়, পুরো এলাকার মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, মুন্সিপাড়া এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে গত তিন বছরে সংস্থাটি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলেছে। কিন্তু তাতে স্থায়ী সুফল পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, এক বছর জিও ব্যাগ ফেলা হলে পরের বছরই সেগুলোর অনেক অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও নদীভাঙন বন্ধ হচ্ছে না; বরং নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকিতে পড়ছে।
দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তরমোড় থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় কমবেশি ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে নদীর গতিপ্রকৃতি, স্রোতের চাপ ও তীরের গঠন বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
পদ্মার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে গোয়ালন্দের কয়েকটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেবগ্রাম ইউনিয়নের রাখালগাছী ও বেতকা মৌজার বাসিন্দারাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমানে বেতকা ও রাখালগাছী এলাকার সঙ্গে পাবনা জেলার সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু গোয়ালন্দ উপজেলার মূল ভূখণ্ডে আসতে হলে তাদের পদ্মা নদী পার হতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেতকা ও রাখালগাছী এলাকার জমি ও বসতি নদীভাঙনের পর আবার জেগে ওঠা ভূমিতে গড়ে উঠেছে। কিন্তু নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় এসব এলাকা আগের প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সংযোগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলা সদরে যাতায়াত, প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ এবং স্থানীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁদের নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে শুধু ভূমি হারানোর ঘটনা ঘটেনি; বদলে গেছে মানুষের যাতায়াতের পথ, কৃষিকাজের ধরন ও বসবাসের পরিবেশও। একসময় বেতকা ও রাখালগাছীর ওপারে ছিল পদ্মা নদী। তখন গোয়ালন্দের সঙ্গে এলাকাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ছিল। কিন্তু পদ্মার গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বেতকা ও রাখালগাছী গোয়ালন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গোয়ালন্দ নদীশাসন আন্দোলনের সদস্যসচিব জামাল মুন্সি বলেন, আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেই মুন্সি বাজারও একসময় স্মৃতি হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, একসময় পদ্মা নদী এখান থেকে অনেক দূরে ছিল। সেই নদী মানুষের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও জমিজমা গ্রাস করতে করতে এখন জনপদের একেবারে কাছে চলে এসেছে।
তিনি বলেন, গোয়ালন্দের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছে। একের পর এক পরিবার তাদের বসতভিটা হারাচ্ছে। কারও জমি যাচ্ছে, কারও বাড়ি যাচ্ছে, আবার কারও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন শুরু হলে জিও ব্যাগ ফেলা হয়, কিন্তু তাতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এক জায়গায় প্রতিরোধ করা হলেও অন্য জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে নদীকে থামানো সম্ভব নয়।
৭০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদের জীবনের বড় অংশ কেটেছে পদ্মার সঙ্গে লড়াই করে। দীর্ঘ জীবনে পাঁচবার তার বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবারই নতুন করে ঘর তৈরি করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নদীভাঙনের আতঙ্ক থেকে কখনোই মুক্তি পাননি তিনি।
আব্দুস সামাদ বলেন, আমার বাড়িঘর পাঁচবার পদ্মায় ভেঙেছে। এক জায়গায় বাড়ি করি, কিছুদিন পর নদী এসে সেই জায়গা নিয়ে যায়। তারপর অন্য জায়গায় গিয়ে আবার ঘর করি। কিন্তু সেখানেও শান্তি নেই। মনে হয়, নদী আমার পেছন পেছন চলে আসে।
নিজের বর্তমান বসতি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন মুন্সিবাজার এলাকায় যে বাড়িতে আছি, সেটিও যদি পদ্মায় ভেঙে যায়, তাহলে রাস্তায় থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। বারবার বাড়ি তৈরি করার মতো সামর্থ্য তো আর নেই। বয়স হয়েছে, এখন নতুন করে কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—সেটাই চিন্তা।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদকর্মী কামাল হোসেনও পদ্মার ভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষের একজন। তার পরিবারের বাড়ি ছিল দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। নদীভাঙনে সেই বাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর অন্য এলাকায় নতুন করে বসতি গড়তে হয়েছে তাদের।
কামাল হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ি ছিল দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। সেখানে বসবাস করার সময়ই বাড়িঘর পদ্মায় ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে উজানচর ইউনিয়নে আমরা ১২ শতক জমি বছরে ৪০ হাজার টাকা চুক্তিতে লিজ নিয়ে সেখানে বাড়ি করেছি। নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে টাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রতি বছর জমির ভাড়া দিতে হয়।
গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজু শিকদার বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো নদীভাঙন। পদ্মার ভাঙন এই উপজেলার মানচিত্রই বদলে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই জনপদের অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যেসব জায়গায় একসময় মানুষের বসতি ছিল, সেখানে এখন নদী প্রবাহিত হচ্ছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় চর জেগে উঠলেও আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসেনি।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে মানুষ শুধু জমি হারায় না; হারায় নিজের পরিচিত পরিবেশ, প্রতিবেশী, সামাজিক বন্ধন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। গোয়ালন্দের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি স্থায়ী নদীশাসন। শুধু ভাঙন শুরু হলে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। কোন এলাকায় কী ধরনের প্রতিরোধ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার বলেন, চলতি বছরের ১ মার্চ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর তীর রক্ষাসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।
সুব্রত কুমার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
