বালিয়াকান্দিতে ১৭তম তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা সংকীর্তন

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

মোঃ আমিরুল হক : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণপত্যা সার্বজনীন কালীমন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ১৭তম বার্ষিকী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন আয়োজনের কর্মসূচি। বিশ্বজননী ও দেশমাতৃকার সকল সন্তানের মঙ্গল কামনায় আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ২৪ প্রহরব্যাপী অখণ্ড মহানাম সংকীর্তন, শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন, নগর কীর্তন, ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৮টায় শ্রীমদ্ভাগবত পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করেন শিক্ষক শ্রী চিত্তরঞ্জন সরকার, বিএ, বিএড। পাঠ শেষে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের শুভ অধিবাস।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সূর্যোদয় থেকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সূর্যোদয় পর্যন্ত ২৪ প্রহরব্যাপী অখণ্ড শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৩১ অক্টোবর নামসংকীর্তন সমাপনান্তে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন।
রবিবার (১ নভেম্বর) লীলা কীর্তন সমাপনান্তে কুঞ্জভঙ্গ ও নগর কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। পরে দুপুরে শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর ভোগরাগ এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির চেতনায় মহানাম সংকীর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজকেরা জানান, কলিযুগে ভগবানের নামসংকীর্তন মানুষের আত্মিক শান্তি, ভক্তি ও কল্যাণের পথ দেখায়। সেই চেতনাকে ধারণ করে জগতের শান্তি, মানবকল্যাণ এবং সকল জীবের মঙ্গল কামনায় এ মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
২৪ প্রহরব্যাপী মহানাম সংকীর্তনে অংশ নিয়ে মহানাম অমৃত পরিবেশন করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাতটি কীর্তনীয়া সম্প্রদায়। এর মধ্যে রয়েছে নড়াইলের গৌর গদাধর সম্প্রদায়, মাগুরার শ্যামা সম্প্রদায়, বরিশালের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু সম্প্রদায়, সাতক্ষীরার ভাগ্যশ্রী সম্প্রদায়, সাতক্ষীরার ব্রজনন্দন সম্প্রদায়, খুলনার ভুবন মোহিনী সম্প্রদায় এবং স্থানীয় গণপত্যার রঘুনাথ সম্প্রদায়।
এ ছাড়া শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন পরিবেশন করেছেন বগুড়ার উত্তম সাহা, ফরিদপুরের অমল ব্যানার্জী ও মানিকগঞ্জের শ্রীমতি অনিমা বিশ্বাস।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ বার্ষিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়েছে। মহানাম সংকীর্তন ও লীলা কীর্তনের মধ্য দিয়ে সকলের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। জয় নিতাই। জয় গৌর। হরে কৃষ্ণ।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার মন্ডল বলেন, “সকলের মঙ্গল, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় আমরা প্রতিবছরের মতো এবারও ১৭তম বার্ষিকী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাতটি কীর্তনীয়া সম্প্রদায় মহানাম সংকীর্তন পরিবেশন করছেন। ভক্তবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা চাই, মহানাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ভক্তি, ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হোক। এ মহতী ধর্মীয় আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”