কালুখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

লেখক:
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

মোঃ আমিরুল হক : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মিনাজ বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে মারধর, গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিনাজ বেগম কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিনাজ বেগম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগে তিনি তাঁর দেবর রফিক মোল্লা (৪৫), দেবরের স্ত্রী সালমা বেগম (৩৮), তাঁদের মেয়ে সুহতি আক্তার (২১) এবং মতুল মোল্লা (৩২) কে বিবাদী করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মিনাজ বেগম উল্লেখ করেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সম্প্রতি ওই সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি নিজের জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে নিজের জায়গায় মিস্ত্রি দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ করানোর সময় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে ১ নম্বর বিবাদী রফিক মোল্লা তাঁর হাতে থাকা রশি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মিনাজ বেগমের গলায় পেঁচিয়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করা হয়। পাশাপাশি অন্য বিবাদীরাও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আহত অবস্থায় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
মিনাজ বেগম অভিযোগে আরও জানান, চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মিনাজ বেগম অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।