পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শনে কাল আসছেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে


সোহেল রানা : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শনে আজ শুক্রবার পরিদর্শনে আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এমপি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন-অর রশিদ। এসময় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া সহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর একপত্রে মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোঃ মাসুম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এমপি আজ ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করবেন। সকাল ৭টায় ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে রাজবাড়ী জেলার (পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে) পাংশা উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১০টায় পাংশায় উপস্থিতি ও বিরতি। সকাল ১১টায় পাংশা উপজেলার হাবাসপুর নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১১ টায় হাবাসপুর, পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন। ১টায় জুম্মার নামাজ ও মধ্যাহৃ বিরতি। বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সালদাহ নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল ৪টায় সালদাহ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পভুক্ত গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন। বিকেল সাড়ে ৪টায় সাইট পরিদর্শন শেষে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে উপস্থিতি ও বিরতি। বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকার ধানমন্ডি নিজ বাসভবনে উপস্থিতি। এ সফরে মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোঃ মাসুম রেজা, মন্ত্রীর তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তানজিল আহমেদ খান ও গানম্যান মোঃ আবু কাওছার উপস্থিত থাকবেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর একপত্রে উপদেষ্টার একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোঃ সরওয়ার মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলা সফর করবেন। তিনি সকাল ৭টায় ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১০টায় পাংশায় উপস্থিতি ও বিরতি। সকাল ১১টায় পাংশা উপজেলার হাবাসপুর নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১১ টায় হাবাসপুর, পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন। ১টায় জুম্মার নামাজ ও মধ্যাহৃ বিরতি। বিকেল ৪টায় মাছপাড়া মহাবিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। বিকেল ৫টায় পাংশা উপজেলা থেকে কালুখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল সাড়ে ৫টায় কালুখালী উপজেলায় উপস্থিতি এবং কালুখালী মহিলা কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কালুখালী হতে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। রাত ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে উপস্থিতি ও বিরতি। বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকায় নিজ বাসভবনে উপস্থিতি। এ সফরে উপদেষ্টার একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোঃ সরওয়ার মোর্শেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) শেখ মেহেদী ইসলাম, ব্যক্তিগত সহকারী প্রাঙ্গন আলী ও গানম্যান মুহাম্মদ আজিম উপস্থিত থাকবেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর একপত্রে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি আজ ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলা সফর করবেন।
তিনি সকাল ৭টায় ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে রাজবাড়ী জেলার (পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে) পাংশা উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১০টায় পাংশায় উপস্থিতি ও বিরতি। সকাল ১১টায় পাংশা উপজেলার হাবাসপুর নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সকাল সাড়ে ১১ টায় হাবাসপুর, পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন। ১টায় জুম্মার নামাজ ও মধ্যাহৃ বিরতি। বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সালদাহ নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল ৪টায় সালদাহ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পভুক্ত গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন। বিকেল সাড়ে ৪টায় সাইট পরিদর্শন শেষে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে উপস্থিতি ও বিরতি। বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় রাজবাড়ী নিজ বাসভবনে উপস্থিতি। ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়, দুপুর ২টায় রাজবাড়ী হতে সড়কপথে ঢাকার বাসভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার বাসভবনে উপস্থিতি। এ সফরে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ ফয়জুর রহমান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া সহ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এমপির আগমনে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন-অর রশিদ বলেন, শুক্রবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিমুজ্জামান মোল্যা, রাজবাড়ী-২ আসনের পাংশা উপজেলার হাবাসপুর-বাহাদুরপুর অঞ্চলে একনেক (ঊঈঘঊঈ) কর্তৃক অনুমোদিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান এবং প্রকল্পটির কার্যক্রম অতি দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এ উপলক্ষে হাবাসপুরে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘ ছয় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েপদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। ১৩ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়।
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে রাজবাড়ী জেলার পাংশায়। এ ব্যরেজ প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ধরে রাখবে।পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, এই ব্যারেজ নির্মিত হলে দক্ষি ণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হয়ে ওঠবে, বাড়বে কৃষিউৎপাদন। এর সুফল পাবে ২৬ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির ঘাটতি মোকাবিলা, নদীব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামগ্রিক পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মিতব্য ব্যারাজে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বহুমুখি এই প্রকল্পের আওতায় জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ইছামতি-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ী পাম্প হাউস, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্যারাজের ওপর সড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এটিকে বহুমুখী করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এর ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ কর্মদিবসের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে প্রায় ৪৭ হাজার ৯৫০ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ একর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জন্য সাতটি উপগ্রহ শহর ও আধুনিক গ্রামীণ টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন কমিয়ে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
মূলত ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে উজানে পানি প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতেই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কথা ভাবা হয়। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশে পদ্মার প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে করে দেশের কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌচলাচল, পানির প্রাপ্যতা এবং বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাদু পানির প্রবাহ হ্রাসের কারণে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের আশেপাশের নদী এবং খালগুলোতে লবণাক্ততার উচ্চ ঘনত্বের কারণে গুরুতর হমকির সম্মুখীন হয়েছে। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী ও চন্দনা-বারাশিয়া নদী ব্যবস্থায় ব্যাপক পলি জমে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে চলে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়াসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এদিকে বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের যাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন আলোর মিলছে। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
পানি বন্টনে ভারত সমতা বজায় না রাখায় গঙ্গার পানির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঁধ নির্মাণই বাংলাদেশের জন্য একমাত্র পথ। সরকারের উচিত অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। শুকনো মৌসুমে গঙ্গার পানি ব্যবহারে এই বাঁধের কোনো বিকল্প নেই। ভারত শুরু থেকেই বাঁধ নির্মাণ করে শুকনো মৌসুমে গঙ্গার পানির সুষ্ঠু ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছে। চুক্তির এই মেয়াদ শেষে ভারত নিশ্চয়ই আবার গঙ্গার পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রশ্ন তুলবে। তখন বাংলাদেশের কোনো যৌক্তিক অবস্থান নেয়ার থাকবে না। গঙ্গা-নির্ভর এলাকা প্রায় ৫১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর, ২৬টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এলাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বাংলাদেশে গড়াইসহ পদ্মার উভয় তীরের শাখা নদীগুলোতে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়াতে হলে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা তৈরি হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে, শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও কিছু ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার হবে। নদীতে নাব্য হ্রাস ও পলি জমার সমস্যা কমানো যেতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় সাত-অটাটি নদীতে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাই জরুরিভাবে প্রকল্প অনুমোদন প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; বরং দেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমাধান হতে পারে।