
সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অন্যের বিবাহিত স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে।
ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল রাজ্জাক মিয়া। আব্দুল রাজ্জাক মিয়া উপজেলার হাউলি কেউটিল এলাকার কেসমত আলী মিয়ার ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক স্বপন কুমার মজুমদার (৫০), গোয়ালন্দ উপজেলার উজান চর ইউনিয়নের দিরাজুত্তলা পাড়ার ইসমাইল মোল্লার মেয়ে সান আরা সিমু (৩০) ও সান আরা সিমুর বাবা ইসমাইল মোল্লা (৫৫)।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, তিনি একজন প্রবাস ফেরত যুবক। তার সাথে পারিবারিক ভাবে স্ত্রী সিমু’র বিয়ে হয়েছিল। এরপর একটি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আমি কয়েক দফা থানায় যাই। এ সময় আমার স্ত্রী আমার সাথে থানায় যায়। একটা সময় আমার স্ত্রী’র আচরণে পরিবর্তন আসে। সে ফোন নিয়ে দীর্ঘ সময় কারও সাথে কথা বলে। এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে সে থানায় জানায় প্রথম দিকে ওসি সাহেব আমাকে বিষয়টি বুঝায়। একটা সময় সে দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে। এ অবস্থায় কিছু বললেই সে ওসি স্বপন কুমার মজুমদারকে ফোন দেয়। তখন ওসি আমাকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেয় এবং তার সাথে থাকতে না পারলে ডিভোর্স দিতে বলে। আমার স্ত্রী’র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে বারবার থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি ধামকি দেয় এবং আমাকে ক্রস ফায়ারে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।
ক্রমাগত আমার উপর চাপ এবং মানসিক নির্যাতনের ফলে আমি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করি এবং নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন সময় বাড়ির বাইরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য হই। এ সময়ে আমার প্রাক্তন স্ত্রী সান আরা সিমু আমার গচ্ছিত নগদ আড়াই লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং রাজবাড়ীতে ভাড়া বাসায় ওঠেন।
তার পরিবার থেকে বিভিন্ন মারফতে জানানো হয় সে বিউটি পার্লারে জব নিয়েছে। আসলে তখন সে আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ওসি স্বপন কুমার মজুমদারের ভাড়াকৃত বাসায় উঠে এবং ওসি স্বপন কুমার মজুমদারের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে যা আমার নিকট গোপন রাখা হয়। আমি পাগল প্রায় হয়ে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হই।
এদিকে সানআরা শিমু ক্রমাগত আমাকে তালাক দিতে চাপ দিতে থাকে এবং দেনমোহরের আর্থ সহ অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্নভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও সফল হইনি। পরবর্তীতে স্বপন কুমার মজুমদার ভয়ভীতি এবং ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে আমাকে তালাক প্রদান করতে বাধ্য করে এবং মোটা অংকের টাকা আমার কাছ থেকে আদায় করে নেয়। আমার কাছ থেকে দেনমোহর বাবদ তিন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা নেয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে তারা বিবাহ না করে অনৈতিকভাবে একত্রে বসবাস করছে। ইতিমধ্যে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের দরুন একটা কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন মারফত জানা যায় যে সন্তানের জন্মের বিষয় ধামাচাপা দেয়ার জন্য কন্যা সন্তানকে তারা গুম করে বা হত্যা করে তাকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা করছে।
বিভিন্ন তথ্য ও ঘটনার ভিত্তিতে আমার দৃঢ় সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদারের সঙ্গে আমার প্রাক্তন স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং সেই সম্পর্কের কারণে আমার ওপর অন্যায় চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হয়েছে। এছাড়া আমি পরবর্তীতে এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হই, যা আমার সন্দেহকে আরও জোরালো করে।
আদালতে দাখিল করা তফসিলে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামালের বিবরণ ও মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে। মামলাটিতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৪৮, ৩৮০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নথিতে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি এই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায় বিচার চান।
