
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট তথা দন্তমার্জনীর অধিকাংশেই ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হইবার খবর যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রাপ্তবয়স্ক তো বটেই, শিশুদের জন্য প্রস্তুত দন্তমার্জনীতেও মিলিয়াছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই বস্তু যে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বৃহৎ বিপদকে আহ্বান জানাইতে পারে, উহা বুঝিতে বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই।
বেসকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর অনুসন্ধানে দেখা যাইতেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ হইতে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। উপরন্তু উদ্বেগজনক, দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা নির্ধারণে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি না থাকিবার কারণে উৎপাদকগণ এই বিষয়ে তথ্য প্রকাশে বাধ্য নহেন। একই কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত। দন্তমার্জনকালে টুথপেস্ট হইতে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক কেবল ব্যক্তির স্বাস্থ্য নহে; বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়াইয়া নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করিতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এই সকল ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রহিয়াছে। ইহার ফলে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রহিয়াছে।
