রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে নিখোঁজ থাকা আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছে : পরিবারে চলছে শোকের মাতম

লেখক:
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

মাসুদ রেজা শিশির : রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে পাইপলাইন পরীক্ষার সময় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশীর মধ্যে ২ জনই রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাসিন্দা ছিল,একজনের নাম মনির, অপরজন আব্দুল কুদ্দুস। পরে তাদের ২ জনের সন্ধান মিললেও আব্দুল কদ্দুস নামের যুবক আজ মারা গিয়েছে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম, আব্দুল কুদ্দুস পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে।
দেড় বছর আগে জিবিকার তাগিদে রাশিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন কুদ্দুস সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। পিতৃহীন কুদ্দুসের ছোট বেলা থেকেই কষ্টে কেটেছে তার জীবন, একটু ভাল থাকবার আশায় পারি দিয়েছিলেন প্রবাসে।
কুদ্দুসের পরিবারের দাবী যে কোন উপায়ে বাংলাদেশ সরকার যেন তাদের সন্তানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কুদ্দুসের বৃদ্ধ মায়ের আহাজারীতে আকাশ বাতাস ভাড়ী হয়ে উঠেছে।
অপর দিকে রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভাধীন চরমোদিপুর গ্রামের অপর নিখোঁজ থাকা মনিরুল ইসলামের পরিবার জানান মনিরুল ফকির নিখোজ ছিলো। এখন তার সন্ধান পওয়া গেছে ঘটনার সাথে সাথে হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর ছিলো। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো শহরে রয়েছে।
আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যুর বিষয় টা নিশ্চিত করে তার বড় ভাই আব্দুল আলীম বলেন সন্ধ্যায় জানতে পারছি আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। এখন একটায় চাওয়া ভাইয়ের লাশটা যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৫ আগস্ট এজিসিসি নামক প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টের একটি সংযোগ স্থানে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা বিকট বিস্ফোরণে রূপ নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।