
এস,এম হেলাল খন্দকার : সাত কন্যাসন্তান নিয়ে অভাবের সংসার। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্ত্রী। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একে একে বিক্রি করেছেন সহায়-সম্বল। তবুও স্ত্রী রওশন আরা বেগমকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৪২ বছর বয়সী রওশন আরা। অর্থের অভাবে যখন চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল পরিবারটি, ঠিক তখনই অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থা।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর বাজারে রওশন আরা বেগমের চিকিৎসার জন্য তাঁর স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে নগদ ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও রাজধরপুর বাজারের ব্যবসায়ী সার্জেন্ট (অব.) মোঃ আরিফুল ইসলাম সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ অর্থ প্রদান করেন।
জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রওশন আরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁর দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নিজের সহায়-সম্বল বিক্রি করেও শেষ পর্যন্ত কুলিয়ে উঠতে পারেননি আবু বক্কর। একদিকে স্ত্রীর অসুস্থতা, অন্যদিকে সাত কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ—সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে পরিবারটি। স্ত্রীকে বাঁচাতে আর্থিক সহায়তার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান জুয়েলের প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থার কাছে বিষয়টি পৌঁছালে সংস্থাটি রওশন আরার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁর পরিবারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তার অর্থ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আবু বক্কর সিদ্দিক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সাতটি কন্যাসন্তান। এর মধ্যে আমার স্ত্রী দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল যা ছিল, সবই শেষ হয়ে গেছে। অনেকের কাছে সহায়তার জন্য গিয়েছি, কিন্তু তেমন কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থার কথা জানতে পেরে যোগাযোগ করি। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা আমার হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। এই সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। অন্তত চিকিৎসাটা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পেলাম।”
স্থানীয়রা বলেন, অসহায় মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি মানবিকতারও দৃষ্টান্ত। রওশন আরার মতো অসুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে একটি পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থা সংশ্লিষ্টরা জানান, অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অর্থের অভাবে চিকিৎসা যেন থেমে না যায় এমন মানবিক উদ্যোগই এখন রওশন আরার পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো।
