
সোহেল রানা : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড.রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে ধংস করে দিয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে তিনি তার নিজ বাসভবন রাজবাড়ীর মাশালিয়ায় জ্বালানি সংকট ও সুষ্ঠ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শিল্প কারখানাসহ সাধারণ মানুষ জ্বালানি খাতে যে দূর্ভোগ ও সংকটের মধ্যে পড়েছে তা ফ্যাসিস্ট সরকারের দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে হয়েছে। এরসাথে যুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। তাদের থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তারপরও সরকার এ খাতে বিশাল অংকের ভর্তূকি দিয়ে চলছে এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। এখন এ সংকট নিরসনে সরকার নানামূখি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সৌর বিদ্যুৎতের মাধ্যমে গ্রাহককে উৎপাদকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এতে জ্বালানির বড় পরিবর্তন হবে এবং এর মাধ্যমে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাবো। দেশের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎতের প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদন করতে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুপ খনন করা প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ১৩০ টি কুপ খননের উদ্দ্যোগ নিয়েছে। অতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের ভেতর ও সমুদ্রে কুপ খনন করে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পৃষ্টপোষকতার জন্য আমদানি নির্ভর করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সাথে যৌথ অংশিদ্বারত্বের সাথে গ্যাস অনুসন্ধানে যাবো। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে খরচ কম হবে। বর্তমান সরকার টেকশই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, তেমনি সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। সেই সাথে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ড্রলার অর্থনীতি যে জ্বালানি কাঠামো দরকার সরকার সেটা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পানির ক্ষেত্রে অনেক সময় বেশি পানি থাকে, আবার কিছু দিন কোন পানি থাকে না। যার কারণে উৎপাদন, কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হয়। আমাদের যেহেতু ভাটির দেশ সেহেতু উজানের পানির হিস্যা দরকার। এ পরিস্থিতিতে পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্য সম্পদসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে জন্য দরকার নদী, শাখা নদী ও খালে সঠিক পরিমান পানি থাকা। এ জন্য বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইস্তেহারে সার্বিক সামগ্রিক ও দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুস্থ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছেন। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ করছি। এর মাধ্যমে যেমন আমরা পানি সংরক্ষণ করতে পারবো তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ করতে পারবে। একই ভাবে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে ২০ হাজার কিলোমিটার মিটার পর্যন্ত নদী ও খাল পুন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের ৫৪ টি নদীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নদী প্রভাহের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সেটা ন্যায্যতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। বর্তমানে যে চুক্তিটি আছে সেটি ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। সে বিষয়ে ভারতকে অবগত করা হয়েছে। ভারত থেকে সারা পেলে পরবর্তী কাজ শুরু করা হবে। এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
