
আমিরুল ইসলাম : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের চরবহরপুর গ্রামে প্রতিবেশীর বসতঘরে ঢুকে এক নারীকে মারধর, ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেসমিন বেগম (৩২) নামে এক নারী বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেসমিন বেগমের স্বামী সুমন শেখ প্রবাসে থাকেন। তিনি একমাত্র শিশুসন্তানকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী আফরোজা বেগমসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে তার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ীর্ঘদেন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
লিখিত অভিযোগে জেসমিন বেগম উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আফরোজা বেগম তার চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশীরা তাকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে আফরোজা বেগমসহ অন্য অভিযুক্তরা একযোগে তার বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে চুলের মুঠি ধরে বাইরে টেনে বের করে মারধর করা হয়। বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জেসমিনের অভিযোগ, হামলার সময় তার শিশু সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের লোকজন বাধা দিতে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদেরও ভয়ভীতি দেখান। পরে তার আসবাবপত্রের মধ্যে থাকা নগদ ৮ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য এক লাখ টাকার বেশি বলে তিনি দাবি করেছেন, নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা পুলিশে জানালে পরবর্তীতে তাদের সবাইকে হত্যা করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। পরে তার চাচা মোঃ আজাদ মোল্যা তাকে ভ্যানযোগে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন জেসমিন বেগম।
অভিযুক্তরা হলেন, মিলন শেখের স্ত্রী আফরোজা বেগম (৩৩), নারুয়া ইউনিয়নের ঘিকমলা গ্রামের আইফো মল্লিকের ছেলে আলহাজ (২৭), রিয়াজ (২৫) ও চরবহরপুর গ্রামের নাজিমুদ্দিন শেখের ছেলে মিলন শেখ (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আবু বক্কর শেখ, হেলাল মন্ডল, মনিরুল ইসলাম বলেন, টিউবওয়েলের পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে মিলনের স্ত্রী আফরোজা বেগম সকালে জেসমিনকে মারপিট করে। সে বিষয়টি তখনই স্বাভাবিক হয়ে যায়৷ দুপুরে আফরোজা তার বাবার বাড়ী উজজেলার নারুয়া ইউনিয়নের ঘিকমলায় গিয়ে তার ভাইদের সাথে নিয়ে
সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যাবে এমন সময় জেসমিনকে অতর্কিতভাবে মুখ চেপে ধরে বেধরক মারপিট করে এবং তার ঘরে থাকা জমি ছাড়ানোর টাকা ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। আমরা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিনকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পড়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ খেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
