
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজারে চন্দনা নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় থাকা প্রায় ২৮-২৯ বছরের একটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তেঁতুলিয়া দারুসালাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গাছটি প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পরে গাছটির কিছু অংশ স্থানীয় একটি কাঠ চেরাই মিলে পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে গাছটি ছিল সেখানে বড় একটি গর্ত রয়েছে। আশপাশে পড়ে রয়েছে গাছটির মোটা শিকড় ও ডালপালার অংশবিশেষ।
স্থানীয় শাজাহান মন্ডল বলেন, “প্রায় ২৯ বছর আগে আমি মেহগনি গাছটি রোপণ করেছিলাম। আমার টিনশেড মার্কেটের পাশেই গাছটি ছিল। গাছটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় রয়েছে, এটি আমি দীর্ঘদিন ধরে জানি। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও নথিও আমার কাছে রয়েছে। তবে পাশের আতা ফলগাছটি মাদ্রাসার রেকর্ডভুক্ত জমিতে ছিল।”
স্থানীয় এক চা দোকানদার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সুপারের সম্পৃক্ততায় গাছটি কাটা হয়েছে।
স্থানীয় দোকানি কার্তিক বলেন, “গাছটি প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমি ফার্নিচারের কাজ করি। গাছটির দাম জানতে চাইলে আমি প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলেছিলাম।”
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আব্দুল সেলিমের কাঠ চেরাই মিলে গিয়ে মেহগনি গাছটির মোটা ডালপালা দেখতে পান সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম বলেন, “এগুলো তেঁতুলিয়া বাজারের চন্দনা নদীর পাশ থেকে কেটে নেওয়া মেহগনি গাছের অংশ। আমি গাছটি কিনিনি, শুধু কাটার জন্য শ্রমিক দিয়েছিলাম।”
সেলিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চর ফরিদপুর স্কুলের পাশের একটি মন্দিরের পেছনে গিয়ে তিনটি বড় মেহগনি গাছের গুঁড়িও পাওয়া যায়। সেলিম দাবি করেন, সেগুলোও একই গাছের অংশ।
তিনি বলেন, “গাছটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। আমার কাঠ চেরাই মিলে কোনো সরকারি অনুমোদনও নেই।”
তেঁতুলিয়া দারুসালাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুরাদুল ইসলাম প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন। পরে তিনি বলেন, “তেঁতুলিয়া মাদ্রাসা কমিটিসহ আমরা গাছটি কেটেছি।” তবে তার দাবি, “গাছটি মাদ্রাসার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তিতে ছিল।”
মাদ্রাসা সুপারের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে শাজাহান মন্ডল বলেন, “মেহগনি গাছটি মাদ্রাসার জমিতে ছিল না। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ছিল।”
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাজমিনুর রহমান বলেন, “এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তাহলে অবশ্যই আমার জায়গা থেকে আমি কঠোরভাবে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। সরকারি সম্পদ কেউ গোপনে আত্মসাৎ করবে, এটা হতে পারে না। আমি উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেব। বিষয়টি আমি খুব গুরুত্বসহকারে দেখছি।”
সরকারি জায়গায় থাকা গাছটি কাটা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
