বাল্য বিবাহ ও ইভটিজিং নিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি’র সচেতনতামুলক সভা

লেখক:
প্রকাশ: ১ দিন আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চৌধুরী আবদুল হামিদ একাডেমিতে বাল্যবিবাহ এবং মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, “ এই বিদ্যালয়ের কেউ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত না তাহলে মাদক কেন এই সভা? কারণ তোমরাই পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তোমাদের ঘিরেই পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে এবং সব ধরনের খারাপ কাজ ও আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।”
ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, বাল্যবিবাহ, মাদক ও সাইবার আসক্তি বর্তমান সমাজের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি। এসব থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নতুন প্রজন্ম যেন মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার আসক্তির মতো সমস্যায় জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম।”
সভায় বাল্যবিবাহের কুফল, মাদকের ভয়াবহতা, সাইবার আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব, অনলাইনে নিরাপদ থাকার উপায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ-সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও অভিভাবক সজল চৌধুরী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেন।