জনবল সংকটে রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর : ৬৯পদের ৩৭ টি শূন্য

লেখক:
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

রুবেলুর রহমান : তীব্র জনবল সংকটে ধুকছে রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। এসব হাসপাতালের সৃষ্ঠ পদের তুলনায় জনবল রয়েছে অর্ধেকেরও কম। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম।
রাজবাড়ী জেলাসহ ৫ উপজেলায় ৬৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩২ জন। শূন্যে রয়েছে ৩৭টি পদ । এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভেটেরিনারি সার্জনের পদও রয়েছে শূন্য। ফলে জনবল সংকট থাকায় একদিকে যেমন কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবাগ্রহিতারা, তেমনি অন্যদিকে বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ের হাসপাতাল গুলোতে গরু, ছাগল, হাস-মুরগি, বিড়াল সহ শতশত পশু-পাখি নিয়ে আসছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। এসময় জনবল সংকটের কারণে তাদের সেবা পেতে লাগছে বাড়তি সময়। সেবার মান বাড়াতে জনবল সংকট নিরসন ও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহিতারা।
নদী বিধৌত ও কৃষি প্রধান জেলা রাজবাড়ী। এই জেলার ৫ উপজেলার প্রতিটি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে নদী। ফলে এসব এলাকা গবাদি পশু লালন-পালনের উপযোগী এবং অন্যতম স্থান। তাছাড়া পল্ট্রি শিল্পের জন্য বিখ্যাত রাজবাড়ী জেলা।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলা ও ৫ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সৃষ্ঠ পদ রয়েছে ৬৯টি । যারমধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩২ জন এবং শূন্যে পদ রয়েছে ৩৭টি। এরমধ্যে জেলা অফিসে ১৪ টি পদের বিপরীতে ৮ জন এবং সদরে ১১ পদের বিপরীতে ৪ জন, গোয়ালন্দে ১১ পদের ৪ জন, পাংশায় ১১ পদের ৪, কালুখালীতে ১১ পদের ৫ জন ও বালিয়াকান্দিতে ১১ পদের রয়েছে ৭ জন।
সেবাগ্রহিতা রিপন মন্ডল বলেন, সেই সুলতানপুর থেকে একটি গরু নিয়ে রাজবাড়ী সদরের পশু হাসপাতালে আসছি। এখানে এসে দেখি গরু-ছাগলের তুলনায় হাসপাতালের লোক খুব কম। অনেক সময় বসে থেকে সেবা পেয়েছি। এ অবস্থায় লোকবল বাড়ালে আমরা আরও ভাল। দ্রুত সেবা পাব।
আমির হোসেন মোল্লা নামে একজন বলেন, আমরা কৃষক মানুষ, কাজ ফেলে ছাগল নিয়ে এসেছি। অনেক সময় বসে থাকার পর ডাক্তার দেখেছে। এতে তো আমাদের কাজের ক্ষতি হয়। শুনতেছি হাসপাতালে নাকি লোকজন কম। লোকজন বেশি থাকলে সেবাও ভাল হতো।
সেবাগ্রহিতা শাহিনুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ী সদরে হলেও গোয়ালন্দের কাছে। গরু ছাগলের কোন সমস্যা হলে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসার মান মোটামুটি ভাল। কিন্তু এখান থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিতে হয়। সরকারী হাসপাতাল থেকে কেন ভ্যাকসিন কিনে নিবো? এটা বিনামূল্যে পেলে আমাদের সবার জন্য ভাল হতো। তাছাড়া গরু-ছাগল ভ্যান বা নসিমনে আনা-নেওয়া অনেক টাকা খরচ হয়। আমরা চাই ভ্যাকসিন গুলো ফ্রিতে দেওয়া হোক।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ড্রেসার আব্দুস সামাদ শিকদার বলেন, হাসপাতালে রোগীর তুলনায় আমাদের লোকজন খুব কম। ফলে সেবা দিতে কষ্ট হচ্ছে। এখানে লোকবল বাড়লে সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, জনবল সংকট দীর্ঘ দিনের সমস্যা। উপজেলা পর্যায়ে ১১ জনের পদ থাকলেও আমার এখানে মাত্র ৪ জন আছে। হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ ভেটেরিনারি সার্জন। এখানে সেটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্যে রয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। এবং আশানুরুপ সেবা দিতে পারছি না। তাছাড়া গোয়ালন্দ নদী তীরবর্তী উপজেলা এবং এটি পল্ট্রি শিল্প এলাকা। ফলে চিকিৎসা ও সেবার মান উন্নয়নে জনবল
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের অনুমোদিত জনবলে চেয়ে কর্মরত জনবল কম। প্রতিদিন পায় শতাধিক রোগী আসছে। ১১ জনের এই কাজ করতে হচ্ছে ৪ জনকে। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়তই ভ্যাকসিন মূল্যে নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। ফলে বিরম্বনা এড়াতে কার্যালয়ের বাইরে সরকার নির্ধারত ভ্যাকসিনের মূল্যে লিখে টানিয়ে রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা সহ মাঠ পর্যায়ের টিকাদান, খামার পরিদর্শন, উঠার বৈঠক এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুমোদিত পদের অর্ধেকের বেশি পদ শূন্যে। কিছু প্রকল্প ও স্বেচ্ছাসেবী জনবল দিয়ে মাঠ পর্যায়ের কাজ করতে হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শূন্যে পদ পুরন হয় নাই। ইতিমধ্যে সরকার জনবল নিয়োগের উদ্দ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে। এবং এরমাধ্যমে জনগণের দোড় গোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভ্যাকসিন গুলোর মূল্যে গ্রেজেট প্রকাশ করে ১৯৯৮ সাল থেকে নির্ধারন করা। এবং প্রতিটি ভ্যাকসিনের একটি নিদ্দিষ্ট মূল্যে রয়েছে। সেবাগ্রহিতাদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ে ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহের কথা জানানো হয়েছে। এখন এটি উদ্র্ধতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে দ্বিতীয়বারের মত আবার ভ্যাকসিনের মূল্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।