
মোঃ আমিরুল হক : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের খেলার মাঠের সৌন্দর্য্য বর্ধনের নামে পুরাতন গাছের মোটা মোটা ডালপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় পরিবেশসচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেটে ফেলা ডালপালাগুলো স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রমজানের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের খেলার মাঠসংলগ্ন কয়েকটি পুরোনো ও ছায়াদানকারী গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেলা হয়েছে। এতে গাছগুলোর স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাঠের চারপাশের সবুজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ছায়া ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাঠের সৌন্দর্য বাড়ানোর কথা বলে এভাবে গাছের মোটা ডালপালা কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময়ে গাছের ছায়া শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিকল্পিতভাবে গাছের পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে নির্বিচারে ডাল কাটার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাঠের সৌন্দর্য বাড়ানোর আরও অনেক উপায় রয়েছে। গাছের বড় বড় ডাল কেটে ফেললেই সৌন্দর্য বাড়ে না। এতে মাঠের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। গাছের ছায়া কমে যাওয়ায় রোদে মাঠে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়বে।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুবিধার্থেই গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কামাল হোসেন বলেন, “কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় গাছের ডালে বল আটকে যায়। এ কারণে কলেজের সব শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছের ডাল কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি কোনো গাছ বা গাছের ডাল কাটা যায় না। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে, গাছের ডাল কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশসচেতন নাগরিকেরা। একই সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ রক্ষা, পুরোনো গাছের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে গাছ ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
