
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র ফুয়াদ চৌধুরী রোহান (২১) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে বিদেশ থেকে দেশে এনে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার সকালে কলেজ ছাত্র রোহান হত্যার বিচার দাবিতে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বের করা হয় একটি বিক্ষোভ মিছিল। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন কর্মসুচী। মানববন্ধন কর্মসুচীতে জেলা বিএনপির আহব্বায়ক এ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, গাজী আহসান হাবীব, নিহত রোহানের বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহব্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আব্দুল মালেক খান, রাজবাড়ী সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্রাট, দাদশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শেখ, সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মোর্তজা প্রমুখ বক্তৃতা করেন। এছাড়া এ সময় জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা এ সময় বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিদেশে বসে পরিকল্পনা করে অর্থের বিনিময়ে কলেজ ছাত্র রোহানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ডসহ সকল আসামীকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। এ সময় রোহান হত্যাকারী দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের আইনের মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান বক্তারা। সেই সাথে রোহানের বাবাসহ অন্যানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। হত্যার মুল পরিকল্পকারী ও অর্থদাতারা বিদেশে থেকে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করাসহ হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
পরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে এলাকাবাসী, বিএনপি নেতা ও নিহত রোহানের স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, গত (৫ অক্টোবর) সোমবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রোহান। পরবর্তীতে (৮ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়ীর অদুরে রাজবাড়ী সদরের দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা প্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার পেট কাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্ব শত্রুতা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ দিকে রোহান হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
