

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর পাংশায় নারী পুরুষ সহ এক পরিবারের ১০ সদস্যকে মারপিট ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হায়দার আলী এ কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। এতে অভিযুক্ত ২ নং আসামী মোঃ খালেক খাঁ ও ৭ নং আসামী মোঃ রশিদ মন্ডলকে ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ২ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১২ নং আসামী মোঃ উজ্জল বিশ^াসকে ১ বছরের কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৪ জুন উপজেলার বেজপাড়া বাজারের পশ্চিম পাশের্^ নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মোঃ এনামুল হক এর নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন আসামী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযাযী মারাত্মক অস্ত্র সস্ত্র যেমন হকষ্টিক, লোহার রড, কাঠের বাটাম, ধারালো ছোরা আগ্নেয়াস্ত্র সহ বাদীর বসত বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশে অবৈধ শক্তির মহরা প্রদর্শন পূর্বক ত্রাস ও ভীতি সৃষ্টি করিয়া বাদীর বসত বাড়ীর সামনে থাকা দোকান ঘর কুপাইয়া কাটিয়া ফেলে ও বসত ঘরে প্রবেশ করিয়া আক্রমন চালাইয়া ঘরের চেযার টেবিল ভাংচুর করে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিসাধন করে। বাদী, ভিকটিম ও কতক সাক্ষী আসামীগনের এরুপ কার্যকলাপ নিষেধ করিলে আসামীগন তাদের হাতে থাকা মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা ১-৪ নং ভিকটিমকে ধারালো ছোরা, লোহার রড, কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায়, কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুন করার উদ্দেশ্যে কুপাইয়া আঘাত করিয়া গুরুত্বর কাটা ও ফাটা রক্তাক্ত জখম করে। আসামীগন বাদীর বাড়ীর ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকে অর্থাৎ ৫-১০নং ভিকটিমকে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে। ২নং আসামী খালেক খাঁ ভিকটিম জিমকে জীবনের তরে খুন করার উদ্দেশ্যে উপরে তুলিয়া মাটিতে আছাড় মারে। এসময় আসামীগন বাদীর ঘরে থাকা সাফ বাক্সের মধ্য হইতে এনজিও থেকে লোন নেওয়া নগদ ১ লক্ষ টাকা লইয়া যায় এবং ইচ্ছা মত অন্যান্য লুটপাট করে। ১-৪ নং ভিকটিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের মাইক্রোবাসে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লইয়া চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ১ নং ভিকটিমের পাংশা উপজেলা কমপ্লেক্সের রেজিঃ নং ১১/০২ তারিখ ৪/৫/২২ ইং, ২নং ভিকটিমের পাংশা উপজেলা কমপ্লেক্সের রেজিঃ নং ১২/০৩ তারিখ ৪/৫/২২ ইং, ৩নং ভিকটিমের পাংশা উপজেলা কমপ্লেক্সের রেজিঃ নং ১৩/০৪ তারিখ ৪/৫/২২ ইং, ৪ নং ভিকটিমের পাংশা উপজেলা কমপ্লেক্সের রেজিঃ নং ১৫/০৫ তারিখ ৪/৫/২২ ইং। ভিকটিমদের অবস্থা ক্রমাবনতি হওয়ায় থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। আসামীগনের ত্রাসের ফলে উপস্থিত লোকজন ভীত সন্ত্রস্থ হইয়া পরে। বাদী ও কতক সাক্ষীগনের শোর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও সাধারন জনতা ঘটনাস্থলে আসিয়া বাদী, সাক্ষী ও ভিকটিমদেরকে উদ্ধার করে। আসামীগন যাইবার কালে বাদী পক্ষকে হুমকি দিয়া যায় যে, উক্ত বিষয় লইয়া মামলা মোকদ্দমা করিলে খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিব। বাদী পক্ষ পাংশা থানায় মামলা করিতে গেলে আসামীগন অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় আত্মীয় স্বজন ও সাক্ষীগনের সহিত আলাপ আলোচনা করিয়া পরবর্তীতে রাজবাড়ীর আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আদালতে শাহানাজ পারভীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য প্রথমে ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বাদী পক্ষের নারাজীর প্রেক্ষিতে আদালত পুনরায় তদন্তের জন্য পিবিআই, ফরিদপুরকে নির্দেশ দেন। অতঃপর পিবিআই উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলায় চিকিৎসক সহ ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর সাক্ষ্য প্রমানাদি বিশ্লেষণ করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত ১,২ ও ৩ নং আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড প্রদান করেন। এ মামলায় অন্যদেরকে খালাস প্রদান করা হয়। আদালতে বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাড. শফিউল আলম খোকন ও এ্যাড. সাধন কুমার দাস।
