
স্টাফ রিপোর্টার : এলএনজি গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ার কারণে রাজবাড়ীতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ নির্ভর প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দিন-রাতে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে হাস-ফাস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের। তাদের দাবী বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণের। আর ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবী সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সোনিয়া আক্তার বলেন, দিনে-রাতে সমান তালে লোডশেডিং হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করার কারণে বিদ্যুৎ চালিত টিভি, ফ্রিজ নষ্ট হচ্ছে। একদিকে গরম অন্যদিকে লোডশেডিং। হাফিয়ে তুলছে। নিয়ম অনুযায়ী লোডশেডিং দিলে এতো দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমলেও বিল বাড়ছেই।
ওজোপাডিকোর গ্রাহক জাকির হোসেন বলেন, আমার কাছ বিদ্যুতের। তবে দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে সারাদিন বসে বসেই কাটাতে হচ্ছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়। বিদ্যুতের এ সমস্যা শুধু দিনে নয়-রাতেও একই অবস্থা। এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চাই।
ওয়ার্কশপ মালিক শাহিন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে বসেই কাটাতে হচ্ছে। দিন শেষে শ্রমিকদের বেতন ঠিকই দিতে হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসায়ী দাউদ আলী বলেন, একটি কাজ করার সময় ২-৩বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এ কারণে কোন কাজ করতে পারছি না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে যেমন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে, ঠিক সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ ওজোপাডিকো রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌঃ মোঃ মামুন-অর-রশিদ বলেন, ১ লক্ষ ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। শহরে ফিডার ১৪ টি রয়েছে। লোডশেডিং ১ ঘন্টা থেকে আধা ঘণ্টা, পিকআওয়ারে এক ঘন্টা ও অন্যান্য সময় আধা ঘন্টা করে রয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় লোডশেডিং কম দেওয়া হয়। অন্যান্য স্থানে সমান ভাবে লোডশেডিং দেওয়া হয়। গড়ে প্রতিদিন রাতে ৪৬ মেঘাওয়াট চাহিদা থাকলেও ৩০ মেঘাওয়াট পাওয়া যায়। আর দিনে ৪০ মেঘাওয়াট চাহিদা থাকলেও ২৫ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যায়। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী গোলাম আহম্মদ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় ২লক্ষ ৪৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। রবিবার সকাল ৮টায় চাহিদা ৪০ মেঘাওয়াট থাকলেও পাই ২৬ মেঘাওয়াট, সকাল ৯টায় ৪০ মেঘাওয়াটের স্থলে ২৭ মেঘাওয়াট, সকাল ১০ টায় ৪০ মেঘাওয়াটের স্থলে ২৩ মেঘাওয়াট, সকাল ১১ টায় ৩৭ মেঘাওয়াট। দিনের সময়ের সাথে চাহিদা হেরফের হয়। আমরা প্রতিটি এলাকা সমান ভাবে লোডশেডিং দেই। আসলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা পুরণ হলেই লোডশেডিং হ্রাস পাবে।
