দৌলতদিয়া মুন্সি বাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু

লেখক:
প্রকাশ: ৭ দিন আগে

সিরাজুল ইসলাম ঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় ফের নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে পদ্মাপাড়ের ৫০ ফুট কৃষি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীপাড়ের কয়েকশ পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুন্সিবাজার ও কাউয়াজানি এলাকার বিভিন্ন স্থানে নদী গিলছে ফসলি জমি ও বসতভিটা।
স্থানীয় বাসিন্দা হারেজ মিয়া জানান, তিনি আগেও তিন ভাঙা দিয়ে এখন এখানে অবস্থান করছেন। গত ভাঙনে বেশ কিছু জমি নদী ভাঙনে গেছে এবার আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। যেখানে আগে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, সেখানে ভাঙন থেমে থাকলেও পাশের অংশে আবারও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ না ফেললে গোটা এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।
আরেক বাসিন্দা লোকমান সরদার বলেন, বিগত কয়েক বছরের ভাঙনে আমার প্রায় সব জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন মাত্র সোয়া বিঘা জমি আছে ভাঙন আর কয়েক কাঠা এগুলে সেই জমিও পদ্মার পেটে চলে যাবে। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে এই জিওব্যাগ গুলো ফেলা হলে ভাঙন অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।
পদ্মায় পাটক্ষেত বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লোকমান সরদার বলেন, গত কয়েক দিনে আমার পাট খেতের বেশ কিছু জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। একটু জমি রয়েছে সেটাও নদীতে চলে গেলে আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো। আমরা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, যতদ্রুত সম্ভব আপাতত ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা করুন।
মোবারক খাঁ বলেন, আমার সব হারানোর পথে। এই বাড়ি নদীতে চলে গেলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। সারারাত ঘুম হয় না। কোথায় গিয়ে, কী করে চলবো।
স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ জামাল মুন্সী বলেন, আর কত ভাঙনের শিকার হবো আমরা? আর একবিঘা জমি ভাঙলেই আমার কৃষি জমি ভাঙনের মুখে পড়বে। আমরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। যতদ্রুত সম্ভব ভাঙন রোধে আমাদের ব্যবস্থা করা হোক।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ফেরিঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। যেসব পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং যেখানে জনবসতি ও বিদ্যালয় রয়েছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ তাজমিনুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দুটি বিভাগের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়ে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হয়েছে। তাদের জরিপ অনুযায়ী, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় প্রায় ৬০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। এরমধ্যে যেসব এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে, সেই ২০০ মিটার এলাকায় কাজ শুরু করা হয়েছে। বাকি ৪০০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ওই অংশেও কাজ শুরু করা হবে।