দুই পাশে কোন খাল-পুকুর নেই শুধু মাত্র রাস্তার কাজের বিল বাড়াতে গোয়ালন্দে পৌরসভার অপ্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণে এলাকাবাসীর বাঁধা

লেখক:
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

সিরাজুল ইসলাম : দুই পাশে কোন খাল বা পুকুর নেই। শুধু মাত্র রাস্তার কাজের বিল বাড়াতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভায় কালভার্টে নির্মাণে এলাকাবাসী স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের এমন সিদ্ধান্তে এবং সরকারের অর্থ বিনা প্রয়োজনে অপচয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
গোয়ালন্দ পৌরসভা সুত্রে জানাযায়, গত ১০ মার্চ ২০২৪ অর্থবছরে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক তৈরী করার দরপত্র পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কামরুল ব্রাদার্স লিমিটেড। কিন্তু কাজ করছে ফরিদপুর এবং গোয়ালন্দের সাবেক কমিশনার নাসিরুদ্দিন রনি। যার কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৫ সালের ১০ মার্চ। পরবর্তী কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ মে-২০২৫ পর্যন্ত করা হয়েছে। এর আরও কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। এ কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। এছাড়া ৩৬০৫ মিটার কাজ সাথে দুটি কালভার্ট ছিল। এর সাথে ১২৫ টি স্ট্রিট লাইট। চারটি রাস্তা রয়েছে এখানে খাজা অফিস থেকে বেড়িবাঁধ, জেএন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, গুচ্ছ গ্রামের রাস্তা, মোহন কমিশনারের বাড়ির সামনের রাস্তা। কিন্তু কোন কালভার্ট নির্মাণ হয়নি।
এ সড়কের গোয়ালন্দ খাঁজা অফিস থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তার কাজ করা হয়েছে নিম্নমানের পাথর ও আদলা ইট দিয়ে। আর ঢালাই এ ব্যবহার করা হয়েছে নামমাত্র সিমেন্ট, যার বেশিরভাগই বালু। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী পৌরসভাকে অবগত করলে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পাথর ও আদলা ইট পরিবর্তন করার জন্য লিখিতভাবে চিঠি দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। কথা ছিলো পুনরায় সেই ঢালাইকৃত অংশের ঢালাই উঠিয়ে, সেই জায়গায় নতুন করে ঢালাই দেওয়ার। কিন্তু সেই পুরাতন ঢালাই আর ওঠানো হয়নি। দেওয়া হয়নি নতুন করে ঢালাই।
তাছাড়াও অভিযোগ আছে, রাস্তার অবশিষ্ট প্রায় ৩৩০৫ মিটার অংশের গাইড ওয়াল, সিসি ঢালাই ও আরসিসি ঢালাই এ ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। এ নিয়ে পৌরসভার সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার নাসিরন আক্তার সিমার সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রাজমিস্ত্রী ইকবালের সাথে একবার ঝামেলা হয়।
প্রায় ৬৫ জনের স্বাক্ষরকৃত স্মারক লিপিতে বলা হয়, গোয়ালন্দ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর গ্রাম কুমড়াকান্দি। পৌরসভার ৩, ৪, ৭,৮নং ওয়ার্ড জুড়ে এ কুমড়াকান্দি গ্রামের অবস্থান।
পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ওয়াকফকৃত জমির ফসলের আয় কুমড়াকান্দি জামে মসজিদ ও কুমড়াকান্দি পাক-পাঞ্জাতন জামে মসজিদসহ গ্রামের অতীব প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধর্মীয়, মানবকি ও সামাজিক কাজে ব্যয় করা হয়। ওই ওয়াকফকৃত জমিটি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে, শিরোনামে উল্লেখিত নির্মাণাধীন রাস্তার পাশে অবস্থানরত।
জমিটি যথেষ্ট উঁচু এবং বছরের ২-৩টি ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ওই জমির পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণের বাস্তব কোন প্রয়োজনীয়তা বা যেযৗক্তিকতা নেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে জনগণের অর্থ ব্যয় করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলে তা সরকারী অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
ওই কালভার্ট নির্মাণের জন্য এলাকবাসী পূর্বে কোন আবেদন করেননি এবং বর্তমানেও এর কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না। এমতাবস্থায় জনগণের অর্থ অপচয় করে অপ্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে ধর্মীয়, মানবকি ও সামাজিক কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওয়াকফকৃত জমির ক্ষতিসাধন করা হলে এলাকাবাসী তা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারেন না। এ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এলাকবাসীদের মধ্যে অনাকাঙ্গিত বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমান কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ রেখেছে এলাকাবাসী। এসময় কুমড়াকান্দি পাক পাঞ্জাতন মসজিদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে কোন কালেই ভালভার্ট ছিল না এবং কালভার্টের কোন প্রয়োজন নেই। আমরা কখনো এখানে কালভার্ট চাইনি শুধু মাত্র রাস্তার বিল বাড়াতে এখানে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না। এ কারণে এলাকাবাসী কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেহেনা পারভীন বলেন, জনগনের স্বাক্ষরিত অভিযোগ দেওয়ার পর আপাতত কালভার্ট নির্মান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন তিনি অফিসে আসার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে ওই স্থান পরিদর্শন করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।