
সিরাজুল ইসলাম : সিজারে পেটে গজ ৪ মাস ধরে সিসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নার্স বিথী। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতর গজ (মব) রেখে দেওয়ার অভিযোগ বিথী আক্তার নামে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফের। গত চারমাস ধরে সিসিউতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই নার্স। অন্যের চিকিৎসাসেবা ও প্রসবকালীন জটিলতা সামলানো যার পেশা, তিনি নিজেই আজ চিকিৎসকদের চরম অবহেলার শিকার।
ভুক্তভোগী বিথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদদীন মৃধা পাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে। বর্তমান স্বামীর সাথে জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করেন।পেশায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ বিথী আক্তার। চার মাস ধরে নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে না পেরে বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) জীবনের শেষ লড়াই লড়ছেন।
বিথী তার ফেসবুকে পোস্টের এক স্টাটাসে লিখেন- সিজারে পেটে গজ (মব) রেখে ছিলো ডাক্তার।
আমি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ (নার্স)। আমার পড়াশোনা শেষ। ইন্টার্নি করতে পরি নাই। লাইসেন্সও দিতে পারি নাই। আজকে আমি আপনাদের সাথে কয়েকটি কথা শেয়ার করবো।
মে মাসের ৬ তারিখে আমার সিজার হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন ডাক্তার আমার পেটের ভেতর গজ (মব) রেখে দেয়। আমি একটা নার্স আর আমার সাথেই যদি এমন অবস্থা করে তাহলে সাধারণ জনগণের কি হবে?
২য় অপারেশন করা লাগছে ২ মাস পর।যেটা ছিলো খুবই বড় অপারেশন ষঈট তে থাকতে হয়।পেটের নাড়ী পচে যায়। তখনই বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। আবার ২ মাস পর মেডিকেলে আসলাম আরেকটা সার্জারি করানোর জন্য।
বিগত ৪ টা মাস ধরে আমার উপর দিয়ে ঝড় যাচ্ছে। এখন আমি ওঈঈট তে ভর্তি আছি। আমার এখন হার্টের সমস্যাসহ নানান রোগ দেখা দিয়েছে।আগের ওজন ছিল ৬১ কেজি আর এখন ৩৯ কেজি। বাবুটাকে ৪ মাস ধরে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছি না আর পারবো কিনা জানি না। বাচ্চাকে ধরা তো দুরে থাক কান্না করলে ঘরে শুয়ে শুয়ে কান্না করি।বাঁচাবো কিনা শিউর না।
আমি মরে গেলে আমার সন্তানের কি হবে?একজন মা,বাবার বড় সন্তান আমি মারা গেলে বাড়ির হাল কে ধরবে। আমার সাজানো পরিবার,স্বপ্ন,জীবন সবই নষ্ট।
বিথী আরও জানান, এই ঘটনার স্বপক্ষে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি উক্ত অস্ত্রোপচারের সাথে জড়িত চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছেন। বিথী আক্তারের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, দায়ী চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
