
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী শহরের বেসরকারি আরোগ্য ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর সোমা আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজবাড়ীতে আরোগ্য ক্লিনিক পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নজরে আসার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের গাইনী এন্ড অবস্ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহানা পারভীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল-১ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ মাহমুদুর রহমান ও রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির তিন সদস্য রাজবাড়ীতে প্রথমে আরোগ্য ক্লিনিকে যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপারেশন থিয়েটারসহ ক্লিনিকের বিভিন্ন বিষয় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ক্লিনিকের মালিক ও কর্মচারী এবং ওই দিন অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি নিহত সোমা আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলেন।
তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহানা পারভীন বলেন, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সঠিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আশা করি ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পাবেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের কোনাইল গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সোমা আক্তার গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্তান প্রসবের জন্য রাজবাড়ী শহরের বড়পুল আরোগ্য ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোঃ আব্দুল হান্নান তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন এবং অ্যানেসথেসিয়া করেন ডা. জিয়াউল আহসান। অপারেশনের পরপরই সোমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই সোমার মৃত্যু হয়েছে। তবে আরোগ্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রসূতির হৃদ্যন্ত্রের ভালভে আগে থেকেই জটিলতা ছিল। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় বোন রাজিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের আগে চিকিৎসক তাদের সোমার কোনো শারীরিক জটিলতার কথা জানাননি। অপারেশনের পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফরিদপুরে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক সোমাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সিজারিয়ান অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. এস এম এ হান্নান বলেন, রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন ভালোভাবেই সম্পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে রোগী শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার কারণে আইসিইউ সাপোর্টের দরকার ছিল। এ কারণে রোগীকে ফরিদপুরে রেফার্ড করা হয়।
নিহতের বড় বোন রাজিয়া বেগম আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমার বোন এ ক্লিনিকেই মারা যায়, এরপর তারা ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেয়। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নবজাতক শিশুটিকে দেখতে পরিবারের কাছে যান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এ সময় তিনি শিশুটির জন্য নতুন জামাকাপড় ও ডায়পার নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
