বালিয়াকান্দিতে ইন্স্যুরেন্সের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ ॥ এজেন্টের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর এলাকায় ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের সঞ্চিত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সফিকুল ইসলাম নামের এক এজেন্টের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের কষ্টের টাকা ফেরত পেতে ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রাহকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত গণঅভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের জয়ধর বেপারীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম গত প্রায় ১০ বছর ধরে ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষকে অধিক মুনাফা ও নামকরণের প্রলোভন দেখিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পলিসি করান। তার কথায় বিশ্বাস করে এলাকার শত শত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ তিলে তিলে জমানো টাকা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম বাবদ সফিকুলের হাতে তুলে দেন।
সম্প্রতি অনেক গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলে তারা লভ্যাংশসহ মূল টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু মেয়াদ পূর্তির টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে তিনি গ্রাহকদের সাথে নানা ধরনের তালবাহানা ও কালক্ষেপণ শুরু করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাচ্ছেন না। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে এলাকাবাসী জানতে পারেন যে, গ্রাহকদের জমানো বিপুল পরিমাণ টাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে জমা না দিয়ে সফিকুল নিজেই তা আত্মসাৎ করে বর্তমানে সপরিবারে আত্মগোপন করেছেন।
ভুক্তভোগী সুরঞ্জন চন্দ্র বিশ্বাস ও বিনা বেগম জানান, আমরা দিনমজুর ও সাধারণ মানুষ। পেটে কেটে তিলে তিলে এই টাকা জমিয়েছিলাম ভবিষ্যতের আশায়। এখন মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা তো দিচ্ছেই না, উল্টো সফিকুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং এই প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।