
স্টাফ রিপোর্টার : কারখানায় কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য নিচে নামে আকাশ। এর কিছুক্ষণ পর তার চাচাও নিচে নামে। এসময় তিনি দেখতে পান আকাশের টিফিন বাটিটি নিচে সিঁড়িতে পড়ে আছে। এরপর আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে আর তাকে পাওয়া যায় না। ঘটনার দুই মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের। সন্তানকে না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
আকাশ মন্ডল রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ধুনচি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আইয়ুব আলী মন্ডল। নিখোঁজের ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন আইয়ুব আলী।
আকাশের পরিবারের ভাষ্যমতে, আকাশ রাজবাড়ী শহরের ১ নম্বর রেলগেইট সংলগ্ন নজরুল মার্কেটের চতুর্থ তলায় একটি কোট প্যান্টের কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে তার আপন চাচা ও এলাকার অন্যান্যরাও কাজ করেন।
গত ২২ আগস্ট কাজ শেষে রাত ৯ টার দিকে বাড়ি ফেরার জন্য কারখানা থেকে নিচে নামে আকাশ। কিছুক্ষণ পর তার চাচাও নামে। এসময় তার চাচা তৈয়ব আলী মন্ডল আকাশের টিফিন বাটিটি নিচে সিঁড়ির উপরে পরে থাকতে দেখতে পান। এসময় আশপাশে আকাশকে খোঁজাখুিঁজ করে কোথাও না পেয়ে বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে গিয়েও দেখেন সে বাড়িতে যায়নি। পরে পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেন। কোথায় না পেয়ে পরেরদিন আকাশের বাবা থানায় একটি জিডি করেন। এখন পর্যন্ত আকাশের কোথায় খোজঁ মেলেনি।
এদিকে নাতি নিখোঁজ হওয়ার খবর সহ্য করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে আকাশের দাদা মোজাহার মন্ডল। পরিবারটিতে এক ধরণের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আকাশের চাচা তৈয়ব আলী মন্ডল বলেন, ‘কাজ শেষ করার পর আকাশ আগে নামে। আমি সাইকেল নিয়ে পরপরই নিচে নামি। নিচে নেমে দেখি আকাশের টিফিন বাটি নিচে পরে আছে। কিন্তু আকাশ নেই। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি জিডি পাওয়া গেছে। আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি সে রাগ করে চলে গেছে। তার সাথে কোন মোবাইল ফোন নেই। পুলিশ সাধ্যনুযায়ী কাজ করছে।
