১২ কেজির সিলিন্ডার ২৩’শ টাকায় বিক্রি : রাজবাড়ীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি সংকট

লেখক:
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে
রাজবাড়ীতে তীব্র এলপিজি সংকট, ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির সিলিন্ডার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের সংকট। গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এ সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা। সংকটের সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বর্তমানে কোথাও কোথাও ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বিশেষ করে বসুন্ধরা, যমুনা ও বেক্সিমকোর মতো কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে দামও।
সরেজমিনে রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন এলপিজি বিক্রির দোকান ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। দু-একটি দোকানে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। কোম্পানি ও সিলিন্ডারের ধরনভেদে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম নেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
শহরের টিএন্ডটি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, বাসার রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর কয়েকটি দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাননি। পরে একটি দোকান থেকে ওমেরা কোম্পানির ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা জানিয়ে এত বেশি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানি বলেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করছেন।’
রাজবাড়ী শহরের সালমা রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক রিপন শেখ বলেন, গতকাল ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন। আজ একই সিলিন্ডারের জন্য আরও ১০০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসা চালাতে হলে গ্যাস কিনতেই হবে। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়লেও খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ডিলারদের বিরুদ্ধে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
রাজবাড়ী বাজারের সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বিপ্লব বলেন, দিন যত যাচ্ছে সংকট ততই বাড়ছে। যেসব ডিলারের কাছে গ্যাস রয়েছে, তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। তবে বাড়তি দামের কোনো ভাউচার দেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিলারদের গুদামে অভিযান চালানো হলে কোথায় গ্যাস মজুত করে রাখা হচ্ছে, তা বেরিয়ে আসবে।’
রাজবাড়ী শহরের বসুন্ধরা এলপিজির পরিবেশক বেনু দত্ত বলেন, গত ১৫ দিন ধরে রাজবাড়ীতে বসুন্ধরা গ্যাসের সরবরাহ নেই। প্রতি মাসে তার প্রায় ৫ হাজার সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। টানা ১৫ দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে ইউনি, বেক্সিমকো, যমুনা ও সেনা গ্যাসের পরিবেশক নুরুল আলম বলেন, গত এক মাস ধরে বেক্সিমকো গ্যাস সরবরাহ করছে না। অন্য কোম্পানির গ্যাস আনতে মংলায় গাড়ি পাঠানো হলেও এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গাড়িটি সেখানে অপেক্ষা করছে।
তার ভাষ্য, গ্যাস সরবরাহ না পেলে পরিবেশকদের পক্ষেও বাজারে সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে গাড়ি আটকে থাকায় প্রতিদিন ডেমারেজ দিতে হচ্ছে।
বাজার তদারকির দাবি ভোক্তাদের
ভোক্তাদের অভিযোগ, এলপিজি সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনও কোনও ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে দ্রুত বাজার তদারকি, ডিলার ও পরিবেশকদের গুদাম পরিদর্শন এবং কৃত্রিমভাবে গ্যাস মজুত করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, সরবরাহ সংকট থাকলেও কোথাও গ্যাস মজুত করে রাখা হয়েছে কি না, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এই সমস্যা শুধু রাজবাড়ীর নয়, সারা দেশেই চলছে। এখন সরবরাহ না থাকলে কী করণীয়’—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
টানা সংকটের কারণে সাধারণ পরিবার থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির খরচ বেড়ে গেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।